রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : বিএনপি

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় সরকারের ফরমায়েসি অভিহিত করে তা  প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত  মতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নগ্ন প্রকাশ। আমরা এই ফরমায়েসি রায় প্রত্যাখ্যান করছি। : মির্জা ফখরুল বলেন,  জাতির দুর্ভাগ্য এই, সরকার তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত  স্থাপন করলো। যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দিয়ে। আমরা সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার নোংরা কৌশল সজাগ হয়ে অনির্বাচিত এ সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব জানান, বিএনপি এই রায়ের প্রতিবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে এবং আইন লড়াই করবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের আর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আজকে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, এদেশে কোনো নাগরিকেরই আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেয়া ও পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথাই সঠিক প্রমাণিত হলো যে, যে দেশে প্রধান বিচারপতি সুবিচার পায় না, সেদেশে কোনো নাগরিকেরই সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। : ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনার পর বিএনপি সরকারের নেয়া পদপেসমূহ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি সরকারই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। এসব তদন্তে এবং আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১-এর সরকারের আমলের তদন্তে প্রতিবেদনের কোথাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি ওই সময়ে ১৬১ ধারা অনুযায়ী তখন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে কারারুদ্ধ  শেখ হাসিনাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। ৬২ জনের সাীর কেউ তারেক রহমান কিংবা বিএনপির নামও উচ্চারণ করেননি। : ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ মতায় আসার পর মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে হেয় তিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত করার ল্েয অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহহার আকন্দকে চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে এটিকে একটি রাজনৈতিক মামলায় রূপান্তরিত করে। এই নতুন তদন্ত কর্মকর্তাই মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নিয়ে, সীমাহীন ও অকথ্য অত্যাচার করে তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানানো এক জবানবন্দিতে মুফতি হান্নানের স্বার নিয়ে তারেক রহমানকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে তার সেই কথিত জবানবন্দি এই মর্মে প্রত্যাহার করেন যে, তিনি তারেক রহমানকে চেনেন না, তার সাথে কোনো কথা হয়নি এবং অত্যাচার করে তাকে স্বার করতে বাধ্য করেছে। : সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন,  এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্য স্যা প্রমাণ, উপাত্ত-তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তা সত্ত্বেও তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। : একুশে আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় রায়ের প্রতিবাদে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির : একুশে আগস্টে গ্রেনেড হত্যা মামলায় রায়কে প্রত্যাখ্যান করে দেশব্যাপী আজ বৃহস্পতিবার বিােভ সমাবেশ ও রবিবার কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। : তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জেলা-থানায় বিােভ সমাবেশ ও মিছিল হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে জেলা-মহানগরে কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। রিজভী একই সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। : ১৩ অক্টোবর ছাত্রদল, ১৪ অক্টোবর যুবদল, ১৫ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দল বিােভ সমাবেশ এবং ১৭ অক্টোবর মহিলা দল এবং ১৮ অক্টোবর শ্রমিক দলের মানববন্ধন কর্মসূচি হবে। এই কর্মসূচির ২০ মিনিট আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেন। : আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন। ৪৯ আসামির মধ্যে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। : আসামিপ ন্যায়বিচার পাননি : আইনজীবী : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি’ দাবি করে আসামিপরে আইনজীবীরা বলেছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে’ এই আদেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনার ১৪ বছর পর গতকাল বুধবার দুপুরে বর্বরোচিত ও নৃশংস এই হামলার রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। : গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন। ৪৯ আসামির মধ্যে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় দেন। পরে প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ন্যায়বিচার এখানে তারেক রহমান পাননি। এবং যাদের ফাঁসি দেয়া হয়েছে, তারাও ন্যায়বিচার পাননি। এই সাজা দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। আমরা আপিল করব। আপিলে ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ আদালতে আমরা খালাস পাব।’ অপর এক প্রতিক্রিয়ায় আসামিপরে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এটায় ১৯ জনের ফাঁসি হয়েছে, এখানে তারেক রহমানসহ বিএনপির যেসব নেতাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে, হাওয়া ভবন এবং আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনো সাী এসে এই মামলায় স্যা দেয় নাই। তারা ওইখানে বইসা গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে, এটার কোনো সাী নাই। আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই।’ ‘আর মুফতি হান্নান চার শ দিন রিমান্ডে যে জবানবন্দি দিয়েছে, সেই জবানবন্দি সে প্রত্যাহার করে বলেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার কোনোদিন দেখাই হয় নাই। অথচ আজকে অন্যায়ভাবে, বেআইনিভাবে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। বিএনপির বহু নেতাকে, আমাদের আবদুস সালাম পিন্টুকে এই মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে।’ সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা খালাস হবেন। এবং আপনারা মনে রাখবেন, এই মামলায় বিএনপির আমলে যে তদন্ত করেছে, সেই তদন্তের ভিত্তিতেই মুফতি আবদুল হান্নান এবং অন্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই তদন্তের পরিপ্রেেিতই এই মামলার সাী হয়েছে। কোনো সাী বলে নাই, তারেক রহমান কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন, কোনো গোপন বৈঠক করেছেন, অথচ তাকে আজকে অন্যায়ভাবে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই।’ আইনজীবী আরো বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, হারিছ চৌধুরী, তারেক রহমান কোনো অন্যায় করেন নাই। এই দেশে, এই দেশের গণতন্ত্র রার জন্য, স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করার জন্য, আইনের শাসনের জন্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য তারেক রহমান আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, আরো করে যাবেন।’ : এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে ফিরে আসবেন, আমরা অবশ্যই এ মামলায় ইনশাআল্লাহ আপিল করব। তারেক রহমান নির্দোষ হবেন।’ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। : তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড- প্রদান করায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ সাদা দলের : ২১ আগস্ট হামলা ও হত্যা মামলার রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল বুধবার আহ্বায়ক এ বিএম ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সাদা দল জানায়, ‘২১ আগস্টের ঘটনাটি অত্যন্ত গর্হিত ও জঘন্য অপরাধ। সচেতন ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমরা এ অপরাধের ন্যায়বিচার কামনা করি। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ২০০৪ সালে সংঘটিত এ ঘটনার জন্য ২০০৯ সালে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকে নতুন করে মামলার আসামি করে। সরকার তার রাজনৈতিক জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্যই ঘটনার পাঁচ বছর পর তারেক রহমানকে মামলার আসামি করেছে।’ : এ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে সাদা দল আরো জানায়, ‘এটি বিএনপিকে ধ্বংস ও জিয়া পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সরকারের ধারাবাহিক অপকৌশলেরই অংশ। একটি প্রতিকূল পরিবেশে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তারেক রহমান ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই আমরা এ মামলার রায় পুনর্বিচেনা করে তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং তাকে এ মামলা থেকে আব্যাহতি প্রদানের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’ :   : বিবৃতিটিতে আরো স্বাক্ষর করেন সাদা দলের যুগ্ম আহব্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, যুগ্ম আহব্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুক্তার আলি, মো. আল আমিন, অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, অধ্যাপক ড. মোঃ মেহেদী মাসুদ, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন, ইসরাফিল প্রামাণিক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ড. মোঃ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোঃ আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক ড. মো: আবদুর রশীদ, অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মোঃ এমরান কাইয়ুম, অধ্যাপক ড. হায়দার আলী, অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক, অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়–য়া, অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, রাশীদ মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক আ কা ফিরোজ আহমদ, অধ্যাপক ড. মোঃ নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সফিউল্যাহ, অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক  ড. বোরহান উদ্দীন খান, অধ্যাপক মো. মাহ্ফুজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল আজিজ, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল বাশার, অধ্যাপক ড. শেখ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী, অধ্যাপক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আহমেদ জামাল আনোয়ার, অধ্যাপক এ এস এম মহিউদ্দিন, অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আহসান, অধ্যাপক ড. নেভিন ফরিদা, অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন তারেক,  অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল কাদের, মোঃ মাজহারুল আনোয়ার, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুর রব, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল কাইয়ুম, অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল বাসার, কাওসার হোসেন টগর, অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোঃ আনিছুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল এহসান, অধ্যাপক ড. মোঃ সায়েদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. খোন্দকার  মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া, অধ্যাপক ড. মোঃ খলিলুর রহমান,  অধ্যাপক ড. বাবুনা ফায়েজ, অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এ.এ. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এস. এম. মোস্তফা আল-মামুন, অধ্যাপক শামীম শামছি, অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রাজিয়া বেগম, অধ্যাপক ড. সাহিদা ইসলাম, অধ্যাপক ড. ছগীর আহমেদ, অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সিরাজুল হক, অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, এম এ কাউসার,  মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক  ড. মো. শফিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. ইউসুফ ইবনে হোসাইন, অধ্যাপক  ড. মো. মাসুদ আলম, ড. শেখ মো. ইউসুফ, আবদুল আজিজ, অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজিম আকন্দ, ড. শাহনুর হোসাইন, মিসেস সাবরিনা শাহনাজ, রেজা আসাদ হুদা অনুপম, ড. মো আজহারুল ইসলাম, ড. শেখ মনির উদ্দিন, দেবাশীস পাল, অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক  ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল করিম, অধ্যাপক  ড. মোঃ আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান, ড. মোঃ নাদিরুজ্জামান মন্ডল, অধ্যাপক  ড. মোঃ হাসান উজ্জামান, অধ্যাপক ড. মহব্বত আলী, অধ্যাপক ড. মোঃ খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোঃ জাকির হোসেন খান, অধ্যাপক ড. আফরোজ সুলতানা চ্যামন, অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, ড. আরিফ বিল্লাহ, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান, অধ্যাপক ড. এ এইচ এম জুলফিকার আলী, ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, ড. মুহাম্মদ মেজবাহ উল ইসলাম, ড. মু: মুছলেহ উদ্দীন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, ড. মুহাম্মদ ইফসুফ, ড. মুহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন, ড. মুহাম্মদ শামছুল আলম,  ড. শাকিল উদ্দিন আহমেদ, ড. মুর্শিদা বেগম, মৌটুসী তানহা, ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ শরীফুর রহমান, ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আবুল কায়সার, ড. মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সফিকুল ইসলাম, সেহেলী পারভীন,  অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, মোহাম্মদ দাউদ খান, মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূইয়া, অধ্যাপক ড.  মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ড. মোঃ বেলাল হোসেন, মোঃ মেহেদী হাসান খান, ড. মিরাজ কুবাদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শাহ এমরান, অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা, অধ্যাপক ড. এটিএম জাফরুল আজম, অধ্যাপক ড. হাফিজউদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ আবদুল কাদির,  মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ আজহারুল ইসলাম, ড. মোঃ তাজুল ইসলাম, ড. মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ রবিউল হক, মোঃ কুতুব উদ্দিন, অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, ড. মোঃ জসিম উদ্দীন, আ ন ম সালাহ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. হাসান তালুকদার, মো. রাশেদুজ্জামান, কাজী মাহবুবুর রহমান, আবদুস সালাম, মোঃ আলমগীর হোসেন সম্রাট, আবু আসাদ চৌধুরী, আমিরুস সালাত, অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূইয়া,  মিসেস নুসরাত ফাতেমা, ড. এ টি এম মোস্তফা কামাল, মাহবুব কায়সার,  ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন, ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মোঃ নুরুল আমিন, ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক, ওমর ফারুক, সাইফুদ্দিন আহমেদ, ড. হাফিজ মুজতবা রিজা আহমাদ, অধ্যাপক ড. মো. সানাউল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মঈনুল ইসলাম, ড. ম. আরিফুল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটা ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করার রায়। আমরা মনে করি, এ রায় ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির নেতাদের জড়িয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ রায় জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক এবং সরকার তার একদলীয় শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মুফতি হান্নান ২০০৭ সালে যাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন সেখানে তারেক রহমানের নাম ছিল না, পরবর্তীতে রিমান্ডের অত্যাচারের মাধ্যমে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা হয় এবং মুফতি হান্নান পরবর্তীতে রিমান্ড চলাকালীন নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা ঐ জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তার অন্য মামলায় ফাঁসি হয়ে যাওয়ায় তার জবানবন্দি সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণের সুযোগ আর রাখা হয়নি। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথা বলতে হয়, যে দেশে প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচার পান না, সে দেশে নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না। আমরা মনে করি, তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশের বর্তমান নৈরাজ্যকর অবস্থার অবসান ঘটে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অতি শিগগিরই তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’ : জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ছাড়াও এ বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেনÑ ডা. আহমেদ শফিকুল হায়দার পারভেজ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ডা. শহিদ হাসান, কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, ডা. হারুন-আল-রশিদ, কৃষিবিদ খন্দকার মাহফুজুল হক বাচ্চু, কাদের গণি চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মো. হায়দার আলী, কৃষিবিদ আনোয়ারুন নবী মজুমদার (বাবলা), কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম, এ.কে.এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রশীদ, প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ, প্রকৌশলী আফজাল হোসেন সবুজ, ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, অধ্যাপক ডা. মো. আকরাম উল্লাহ শিকদার, অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুর রহমান, ডা. সাহাদত হোসাইন, কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান (তুহিন), কৃষিবিদ ডা. একেএম নাজমুল হক (লিটু), অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল আকন্দ, ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রাশীদ মাহমুদ, ড. শেখ মনির উদ্দিন, প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ ইকবাল প্রমুখ। :

Torna su