সরকার ‘নীলনকশা’ বাস্তবায়নে ব্যস্ত, ইসি নীরব : মওদুদ আহমেদ

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারবিহীন বর্তমান অবৈধ সরকার ‘নীলনকশা’ বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে উঠলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা মনে করি দেশে এখন পর্যন্ত কোনও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের নূন্যতম পরিবেশ নেই। দিন দিন এই পরিবেশের অবনতি ঘটছে। সরকার যেভাবে তাদের নীলনকশার বাস্তবায়র করার জন্য এগিয়ে চলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেটা রোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মূলত আমরা দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছি। আপনারা জানেন সারা দেশে এখন পুলিশি অভিযান চলছে। গণগ্রেফতার চলছে, প্রতিরাতে অভিযান চলছে। আমাদের নেতাকর্মীরা যাদের ওপর নির্ভর করে আমরা নির্বাচন করি তারা কেউ বাড়িতে থাকতে পারে না। এর কোনও প্রতিকার নেই। আমাদের সম্ভাব্য ৭ জন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কারাগারে আছে।’

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো তাদের জামিন পাওয়া। এখন প্রায় মুশকিল হয়ে গেছে। কারণ বিচারিক আদালন সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারা সরকারের ইচ্ছের প্রতিফল ঘটায় এবং সেখানে সেটা সম্ভবপর নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে দারুণভাবে অসুস্থ। তাঁর জামিনের ব্যাপারেও আপনারা দেখেছেন কিভাবে বিচারিক আদালত অর্থাৎ নিম্ন আদালত কী করছে। দেশের উচ্চতম আদালত যেখানে জামিন দিয়েছে সেখানে তারা নানা অজুহাতে তাকে জামিন না দেয়ায় আমরা এখন পর্যন্ত মুক্ত করতে পারিনি।’

এর আগে শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় নির্বাচন ভবনের কনফারেন্স রুমে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাবনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপি।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ।

Torna su