নির্বাচনের আগে এত ধরপাকড় কখনো দেখিনি : শারমিন মুর্শিদ

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী প্রধান শারমিন মুর্শিদ বলেছেন, এমন নির্দেশনা কখনো শুনিনি যে, মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে বা মোবাইল নেওয়া যাবে না। শনিবার বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, অনেকদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি, এরকম পরিবেশ কখনো দেখিনি যে, নির্বাচন-প্রাক্কালে এত ধরপাকড় হয়। এবার নির্বাচন কমিশন বেশ কড়াকড়ি করছে। যেহেতু মাথার ওপর ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট আছে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মনে নানারকম প্রশ্নও তৈরী হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মোবাইলে ছবি না তোলার অবাস্তব নির্দেশ কেন দেবেন, যেখানে শতশত মানুষ থাকবে। এমনকি প্রার্থীদের লোকজনও থাকবে। কেউ না কেউ মোবাইল নেবে এবং ছবিও তুলবে। নির্বাচন কমিশন কি তাদের মোবাইল নেওয়া বন্ধ করতে পারবে?

তিনি আরো বলেন, সাধারণত নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বেশ অংশগ্রহণ থাকে, এবার সেরকম হচ্ছে না। যেমন ইইউ করছে না। ব্রিটিশরা তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করলেও আমরা জানি যে, তারাও সেভাবে করছে না। মাত্র দুয়েকদিন আগে ইউএসএ ব্যক্ত করলো, তারা কিছু অবজার্ভার দেবে। ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি কিন্তু ঠিক সেই উদ্যোগে আসছে না। তাছাড়া ফান্ডিং রিসোর্সটাও কম।

শারমিন মুর্শিদ বলেন, বাইরের দেশগুলোর অনাগ্রহের আড়ালে ওদের ভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারণ হিসেবে আফ্রিকায় তাদের যথেষ্ট রিসোর্স দেয়াকেই প্রায়োরিটি দিয়েছে। আসলে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন না হলে আমরা দেখেছি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেখানে অংশগ্রহণ করে না। যেমন ২০১৪ সালে পর্যবেক্ষণ করার কথা তারা একেবারেই নাকচ করে দিয়েছিলো।

এবারতো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে, এর জবাবে শারমিন বলেন, অংশগ্রহণ হচ্ছে এবং একটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হবে। তারপরও দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহটা কম। তারপরও আমি বলবো, হাওয়া পাল্টাতে পারে। যেহেতু ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু পাল্টেছে। হাওয়া যদি না পাল্টায় তাহলে আমরা কী এবার তাদের তৎপরতা কম লক্ষ্য করবো? এর জবাবে শারমিন বলেন, আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি, এবারের পরিবেশ কিন্তু অন্যরকম হওয়াতে সমষ্টিগতভাবে দল দিতে তারা ভেবে দেখবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গতিবিধি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত বক্তব্যের পর এ নিয়ে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনেকের মনে সেই সন্দেহ দৃঢ় হয়েছে।

সুত্র: আমাদের সময়.কম

Torna su